নিজে একজন সাধারন মানুষ হলেও, স্বপ্ন রয়েছে আরও পাঁচজন সাধারন মানুষের পাশে থেকে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার। যতটা সম্ভব নিজেকে অন্যের কাজে লাগানোর চেষ্টা করা। তাই বারবার কোন না কোন ভাবে এগিয়ে এসেছেন তিনি মানুষের পাশে থেকে তাদের সাহায্যে করতে। কখনো বন্যা প্লাবিত এলাকায় বানভাসি মানুষদের খাবার বিলি করে। কখনোবা পুজোর সময় দুস্থ, দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে পুজো উপলক্ষে সেই সমস্ত মানুষদের মধ্যে করেছেন নতুন বস্ত্র বিতরন। তিনি হচ্ছেন শ্রী সন্দীপ শাস্ত্রী। মালদা শহরের মহানন্দা পল্লীতে তাঁর বাড়ি এবং চেম্বার। পেশাতে একজন জ্যোতিষী। কিন্তু সমাজের মানুষদের তিনি যেভাবে সাহায্য করে আসছেন তাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি একজন সমাজসেবী নামেও খ্যাতী অর্জন করেছেন।
এবারে দুর্গাপুজোতে শহর লাগোয়া বেশ কয়েকটি গ্রাম গনিপুর, আড়াপুর এই সমস্ত অঞ্চলের প্রায় ১৫০টি দুস্থ পরিবারকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুজো উপলক্ষে নতুন বস্ত্র তুলে দেন শ্রী সন্দীপ শাস্ত্রী। তাঁর এই বস্ত্র বিতরনের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে এক বৃদ্ধার কাহিনী। স্বামী কবেই মারা গেছেন। সম্বল বলতে একটাই তাঁর মেয়ে ও জামাই। মেয়ে ও জামাইয়ের সঙ্গেই থাকেন তিনি। জামাই পেশায় রিক্সা চালক। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো পরিবারের অবস্থা। তার মধ্যে টোটোর জন্য রিক্সা চালানো প্রায় মুশকিল হয়ে উঠেছে। প্রায় ১১ হয়েছে স্বামী মারা গেছে তাই মেয়ে জামাইয়ের অভাবের সংসারে হয়তো ভুলে গেছে কবে পুজোতে নতুন শাড়ি পড়েছেন। তিনি ভাবতে পারেননি এতো বছর পর এবারে দুর্গাপুজায় সে নতুন শাড়ি পরবে। গ্রামে সন্দীপ শাস্ত্রীর বস্ত্র বিতরনের সময় শাড়ি পেয়ে বৃদ্ধা এই বলে কেঁদে উঠেছিলেন। সন্দীপ শাস্ত্রীর সমাজের প্রতি এমন ভালোবাসাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ওই দুস্থ পরিবারগুলি।